পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে জানুন

বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবেন অথচ জানেন না বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে গেলে কি কি কাগজ লাগে? জেনে নিন নতুন ৫ বা ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে তাও ২০২৪ সালে।

বর্তমানে পুরনো MRP পাসপোর্ট এর পরিবর্তে ই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। আর আপনি চাইলেও এখন আর এমআরপি পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন না, পাসপোর্ট রিনিউ কিংবা নতুন করে ইস্যু করার ক্ষেত্রে আপনাকে ই পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট সেবা চালু হয়। বর্তমানে দালাল ছাড়া অনলাইন এর মাধ্যমে আপনারা পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ড কিংবা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে সহজেই পাসপোর্ট আবেদন করা সম্ভব। সাধারণত পাসপোর্টের ধরন অনুযায়ী ডকুমেন্ট ভিন্ন হয়। তাই বিভিন্ন ধরনের পাসপোর্ট করতে আলাদা আলাদা কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে তা জানানো হবে এই লেখাটির মাধ্যমে।

পাসপোর্ট এর ধরন সমূহ

  1. শিশুদের পাসপোর্ট।
  2. প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট।
  3. সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট।

আবেদনকারীর বয়স হিসেবে পাসপোর্ট এর ধরন ভিন্ন হয়। তাছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডকুমেন্টস হিসেবে NOC এবং GO প্রয়োজন হয়। এই ধরনের পাসপোর্টকে Government Order পাসপোর্ট বলা হয়।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

ই পাসপোর্ট করতে হলে প্রথমত আপনাকে আবেদন করতে হবে, ৫ বছর কিংবা ১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন হয়। এবং যাদের বয়স ২০ বছরের নিচে, তাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে। এছাড়াও পিতা মাতার আইডি কার্ড সহ নাগরিক সনদপত্র প্রয়োজন হবে।

পেশা প্রমান এর জন্য স্টুডেন্ট হলে শিক্ষাকার্ড এবং চাকরিজীবী হলে চাকরির কার্ড প্রয়োজন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC এবং GO প্রয়োজন। অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন ফি পরিশোধ করে, চালান রশিদ ও 3R Size এর ছবি প্রয়োজন হবে।

সাধারণত আমরা পাসপোর্ট আবেদনের ভিত্তিকে ৩ ভাগে ভাগ করতে পারি। শিশুদের পাসপোর্ট, প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট ও সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট। বয়স ভেদে পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয়। চলুন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

১.শিশুদের পাসপোর্ট এর আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • গার্ডিয়ান হিসেবে পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ( বাধ্যতামুলক)
  • অনলাইন আবেদন সারাংশ
  • অনলাইন আবেদনের কপি
  • আবেদন ফি ব্যাংক ড্রাফ্ট করে এ চালানের কপি
  • টিকা কার্ড (প্রয়োজনের ক্ষেত্রে)

শিশুদের পাসপোর্ট আবেদন করতে অবশ্যই পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের কপি অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র প্রয়োজন হবে। যেহেতু শিশুর (২০ বছরের নিচে) ভোটার আইডি কার্ড নেই, সেহেতু অবশ্যই গার্ডিয়ানের ডকুমেন্টস প্রয়োজন।

তবে ১৮ বছরের উপরে যাদের ভোটার আইডি কার্ড আছে, তারা গার্ডিয়ানের ডকুমেন্টস ব্যতীত পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবে। সাধারণত তাদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক ক্যাটাগরির মধ্যে বিবেচনা করা হয়।

২.প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • জাতীয় পরিচয় পত্র তথা NID কার্ডের কপি
  • ইউনিয়ন অথবা পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রাপ্ত নাগরিক সনদপত্র
  • ইউটিলিটি বিলের কাগজ
  • অনলাইন আবেদন সারাংশ ( summary)
  • অনলাইন আবেদনের কপি ( 3 pages copy)
  • আবেদন ফি ব্যাংক ড্রাফ্ট করে এ চালানের কপি
  • আবেদনকারী স্টুডেন্ট হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রাপ্ত স্টুডেন্ট কার্ড। অথবা সার্টিফিকেট
  • পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ( অপশনাল)
  • বিবাহিত হলে নিকাহনামা

সাধারণত যাদের ভোটার আইডি কার্ড আছে তাদেরকে প্রাপ্তবয়স্কদের তালিকায় ধরা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন হবে। তাছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গার্ডিয়ানের ডকুমেন্টস প্রয়োজন নেই।

৩.সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের কপি
  • নাগরিক সনদপত্র
  • ইউটিলিটি বিলের কাগজ
  • অনলাইনে আবেদন সারাংশ (Summary)
  • আবেদনের পরে অনলাইন আবেদনের কপি
  • বিবাহিত হলে নিকাহনামা
  • পিতা মাতার এনআইডি ( অপশনাল)
  • NOC (No Objection Certificate)
  • বা GO (Government Order)

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকের থেকে (NOC ও GO) এই ২টি ডকুমেন্ট বেশি প্রয়োজন হবে। যারা রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারি আদেশে দ্রুত দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করবে, তাদের ক্ষেত্রে GO (Government Order) প্রয়োজন।

এবং সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করলে, তার মন্ত্রণালয় কিংবা অভিদপ্তর থেকে NOC (No Objection Certificate) ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে। এই ডকুমেন্টগুলো ব্যতীত সরকারি চাকরিজীবীদের অন্য কোন ডকুমেন্টস প্রয়োজন নেই।

সম্মানিত পাঠ্যবৃন্দ আশা করি পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে এবং পাসপোর্ট আবেদন ফি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। অনলাইনে পাসপোর্ট এর আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই উক্ত ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে নিবেন। আজকের লেখাটি এখানে সমাপ্ত ঘোষণা করছি।

Similar Posts

24 Comments

  1. আমার আইডি কার্ডে নুরুল ইসলাম এবং আমার বাবার আইডি কার্ডের নূর মোহাম্মদ সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে পারবো কিনা

  2. আমার নাম সোহেল রানা পিতা মোঃ ফজলুল হক জমাদার মাতা মোছাঃ শানতি বেগম আমি কি পাসপোর্ট করতে পারবো

  3. আমার মায়ের নামের বানান আমার জাতীয় পরিচয় পত্রে একরকম এসেছে এবং আমার অন্যান্য শিক্ষা সনদে আরেক রকম এসেছে। সেক্ষেত্রে কি সমস্যা হবে কিনা?!

  4. আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে।
    ১. সরকারি চাকরিজীবি (NOC) এর ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিক সনদ লাগবে কিনা?
    ২. কর্মকর্তার স্বামী /স্ত্রীর/শিশুর পাসপোর্ট কি অফিসিয়াল হবে নাকি সাধারণ হবে? (NOC তে স্বামী /স্ত্রী/শিশুর র নাম রয়েছে।)
    ৩. কর্মকর্তার স্বামী /স্ত্রীর/শিশুর জন্য চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিক সনদ লাগবে কিনা?
    ৪. কর্মকর্তার স্বামী /স্ত্রী/শিশুর পাসপোর্ট কত মেয়াদে করতে পারবে?
    ৫. কর্মকর্তার স্বামী /স্ত্রী/শিশুর পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে কিনা?

    1. ১/ NOC থাকলে অন্য নাগরিক সনদের দরকার নেই
      ২/ কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট কখনো অফিসিয়াল হবে না, এখানে অফিসিয়াল পাসপোর্ট বলতে কূটনীতিক পাসপোর্ট কে বোঝানো হয়েছে।
      ৩/ কর্মকর্তার স্ত্রী কিংবা শিশুর জন্য অবশ্যই চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট দরকার হবে
      ৪/ সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট এর মেয়াদ যেমন, ঠিক তেমনি পাসপোর্ট এর মেয়াদ হবে সরকারি কর্মকর্তাদের
      ৫/ অবশ্যই কর্মকর্তার স্বামী-স্ত্রীর বা শিশুর ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রযোজ্য

  5. আমার আইডি কার্ড আছে। আমি কি পিতা মাতার আইডি কার্ড ছাড়া পাসপোর্ট বানাতে পারবো?
    বিঃদ্রঃ আমাকে একজন বলেছে, নিজের আইডি কার্ড, পিতা মাতার আইডি কার্ড এবং বিদ্যুৎ বিলের কাগজ লাগবে।
    তাই আমি জানতে চাচ্ছি আমি কি এইসব ডকুমেন্টস ছাড়া শুধু আমার আইডি কার্ড দিয়ে পাসপোর্ট বানাতে পারবো কিনা?
    আর আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি বর্তমানে কিছুই করি না,আমি পেশা হিসেবে কি দিব? এবং আমি বিবাহিত, এই ক্ষেত্রে বিবাহের কোনো কাগজ পত্র লাগবে কিনা?

    1. জনাব, পিতা মাতার আইডি কার্ড বাধ্যতামুলক। আর পেশা কিছু একটা দিলেই হবে। বিবাহিত হলেও এক্সট্রা কিছু দিতে হবে না৷

      1. আমি বিবাহিত, এই ক্ষেত্রে বিবাহের কোনো কাগজ পত্র লাগবে কিনা,পাসপোর্ট বানাতে কোন বাধ্যতামূলক ডকুমেন্ট দেয়া লাগে বিবাহিতদের জন্য

          1. আসসালামু আলাইকুম। আমার যেহেতু আইডি কার্ড আছে, সেই ক্ষেত্রে কী পাসপোর্ট করার সময় জন্ম নিবন্ধন লাগবে? নাকি শুধু আইডি কার্ড আর বাকি ডকুমেন্ট দিলেই হবে?

  6. আমি বর্তমানে কিছু করছিনা, আগে চাকরি করতাম।আর আগের পাসপোর্টে অবিবাহিত। এখন বিবাহিত তাই বর্তমানে পাসপোর্ট করতে গেলে করনিয় কি?

  7. আমার মায়ের nid card এ নাম গোল নাহার বেগম, আমার nid তে নাহার বেগম, আমার বয়স ১৮ হয়নি।আমি কি পাসপোর্ট করতে পারবো?

    1. প্রাথমিকভাবে আপনার এনআইডি কার্ডে আপনার মায়ের নামটি সংশোধন করুন, অথবা আপনার ভাই বোনের এনআইডি কার্ডেও যদি নাহার বেগম না থাকে তাহলে আপনার মায়ের এনআইডি কার্ডটি সংশোধন করুন। যেহেতু আপনার বয়স ২০ হয়নি সেহেতু আপনি জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন। তবে যেহেতু আপনার আইডি কার্ড আছে, সেটি দিয়ে আবেদন করা ভালো।

  8. আমার স্ত্রীর আইডি কার্ডে তার বাবার বাড়ির ঠিকানা দেওয়া আছে এখন পাসপোর্টে বানানোর ক্ষেত্রে তার ঠিকানার জায়গায় আমি আমার ঠিকানা দিতে চাচ্ছি সেক্ষেত্রে কি আইডি কার্ড সংশোধন করতে হবে নাকি আইডি কার্ড সংশোধন না করে পাসপোর্ট ফর্মে আমার ঠিকানা দিয়ে দিলে কোনো অসুবিধা হবে?

    1. এনআইডি কার্ডের সাথে পাসপোর্ট এর আবেদনের মিল থাকতে হবে, না হলে আবেদন বাতিল করা হবে। এজন্য প্রথমত আপনার স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন করুন। পাসপোর্ট আবেদনের বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা দুইভাবে দেওয়া যায়। দুই জায়গায় দুই ঠিকানা দিলে আলাদা আলাদা ভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রযোজ্য হবে।

  9. আমার দাদুর জন্য পাসপোর্ট বানাতে চাচ্চি,,এখন তার তো বাবা মায়ের nid নাই,,তাহলে কিভাবে আবেদন করবো?
    ওমরা করানোর জন্য

  10. জনাব, আমি আমার পাসপোর্ট টি নিজে নিজে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করতে চাই! জনাব, আমার ভিসা খুবি কাঁচাকাঁচি অবস্থায় আছে! কিন্তু জনাব, আমি শুনতে পেরেছি, পাসপোর্ট দালাল এর মাধ্যমে না করালে নাকি অনেক হেনস্থার শিকার হতে হয়!
    → এখন খুবই চিন্তায় আছি, কি করতে কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা!!

    1. আপনার আবেদনের জন্য কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে তাহলে আপনাকে কোন দালালের পাল্লায় পড়তে হবে না. আপনি ঘরে বসে আবেদন করবেন, এরপরে আবেদন সারাংশ, আবেদনের অনলাইন কপি, ব্যাংক ড্রাফটের কপি, এবং আপনার ইউনিয়ন পরিষদ অথবা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট এর ফটোকপি নিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিবেন, এরপরে ছবি এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করলেই আপনার কাজ শেষ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।